প্রিয় প্রভাবক

জাফর ইকবাল স্যারের সাথে আমার শেষ ইমেইল হয়েছিল তাঁর বইয়ের ক্রমাগত দাম বাড়া নিয়ে... Sir, your book prices are soaring higher and higher... স্যার বলেছিলেন, কিনে পড়তে চাইলে সব বই পড়তে পারবে না।‌ ধার করে পড়তে হবে। ভালো থেকো। 'ভালো থেকো' এই কথা স্যার প্রায় সবসময়ই বলেন। আমি পরে বলেছিলাম, কিছু বই তো স্যার সংগ্রহ-উপহারের জন্য কিনতেই হয়। স্যার এরপর কিছু বলেননি। সম্ভবত সেই EEE Festival নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আমি এবার স্যারের কোনো বই কিনিনি।

আরেকটা দরকারি কথা বলি নিই। একবার স্যারকে HSC ফিজিক্স বইয়ের এক সংশোধনের জন্য বলেছিলাম। স্যার অভিমান করে বললেন, do you really believe they will listen to me? EMF is not a force, but we call it force. 
তড়িৎ চুম্বকীয় বল বল না!


এই হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, যিনি সাবলীলভাবে হাজার হাজার আগ্রহী কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীর সাথে তাঁর মতামত শেয়ার করছেন। যিনি তাঁর আশাবাদী লেখার ঢঙে তরুণ মনে সঞ্চার করেছেন সবসময় হাসিখুশি থাকার স্পৃহা! 

বিশাল সংখ্যক মানুষের ভালোবাসা পাওয়া সহজ বিষয় না। এর জন্য যোগ্যতা লাগে। ভালোবাসা অর্জনের সহজাত গুণ আল্লাহ সবাইকে দেন না। যারা এই রকম মানুষের মতো অবিসংবাদিত ভালোবাসা পেতে পারে, তারা সত্যিই ভাগ্যবান! প্রথম আলোর খবরে পড়লাম, তাঁকে ভর্তি করানোর সময় অনেক শিক্ষার্থীই নাকি কাঁদছিল। সারা দেশে আদতেই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আপনা হতেই তাঁর আপনজন-শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠেছে বর্ম। এমনভাবে ভালোবাসা পেলে ক্ষুদ্র এ মানবজীবনে কী লাগে আর! 

আর কিছু মানুষ, যাদের বুকে ভালোবাসা নেই, জমে থাকে অজ্ঞতা আর ঘৃণার আঁধার—উগ্ৰবাদী সেই সন্ত্রাসীরা কি কখনো এই ভালোবাসার স্বাদ আস্বাদন করতে পেরেছে? তারা জানে কেবল ঘৃণা ছড়াতে। এরা হলো তারা, যারা তৎকালীন নাস্তিক জাকারবার্গের (জাকারবার্গ নাকি এখন ধর্মানুরাগী হয়েছেন) প্লাটফর্ম ব্যবহার করে 'মুরতাদ' 'নাস্তিক'দের বিরুদ্ধে কথা বলে। পরিহাস! তারাই শ্রেষ্ঠ, আর সবাই নিকৃষ্ট! হায় চিন্তা! আল্লাহ ফয়জুলদের হেদায়েত দান করুন।

একজন মানুষ আরেকজনের কাছে শতভাগ পারফেক্ট হয় না। তার মতাদর্শে ভিন্নতা থাকতে পারে। স্যারের অবদানের কাছে সে কিছুই না। স্যারের দোষত্রুটির 'দ' উচ্চারণ করার যোগ্যতা যাদের নাই, তারা কীভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়!
নিশ্চয়ই স্যারের সাথে আবার ইমেইল হবে!

Comments