চোখ-কান খোলা

  
সম্প্রতি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় ভাষণের পর তাঁর মত ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে নিয়েছেন। আমরা তাঁর অনুরাগীরা বড়ই বিস্মিত হয়েছি এবং বিশাল ধাক্কা খেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী যখন এ বলে দুঃখ জানান যে ঢাকা ও শাহজালালের কিছু প্রফেসর কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পক্ষে কথা বলেছেন, তখন এ ভেবে খুশি হয়েছিলাম দেশে একজন আছেন যিনি বিষয়গুলো বোঝেন, কথা বলেন। এরপর? স্যার আমাদেরকে তীব্রভাবে হতাশ করলেন। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের হামলার ব্যাপারে নীরব থাকলেন। হ্যাঁ, পত্রপত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি  তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছেন। একজন মানুষের জীবনে সমালোচনা না থাকলে বিষয়টা যায় না- এ বলেই কি তিনি এটা করলেন? স্যার, আমি আপনাকে চিনতে পারছি না। মানুষজন আপনাকে সুযোগসন্ধানী বলছে, স্যার।
তিনি একজন গুণী মানুষ। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তাঁর অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। বেশ কয়েক বছর আগে পত্রিকায় দেখেছিলাম, শিক্ষার্থীরা যাতে রঙিন বই পায় তার জন্য তিনি সরকারের সাথে ‘ফাইট’ করে যাবেন। এ বছর আমার জুনিয়রদের যখন দেখি তিনশ-চারশ পৃষ্ঠার রঙিন (যেমনটি চেয়েছিলাম টাইপ) রসায়ন বা পদার্থবিজ্ঞান বই হাতে নিয়ে ঘুরছে তখন মন চায় বইগুলো সংগ্রহে রাখি। গণিত অলিম্পিয়াডের মতন প্ল্যাটফর্ম তৈরির পেছনের একজন বড় কারিগর তিনি। এখান থেকে ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে সেটা একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই দেখতে পাবেন। আর হ্যাঁ, আমাদের মতো অল্পবয়স্কদের জন্য বই পড়ার অভ্যাসটা তো তাঁরমতো মানুষজনই এগিয়ে নিচ্ছে। তাঁর সমালোচনাও হওয়া উচিত সেভাবে।

এবার আসি অন্য কথায়। জাফর ইকবাল বেকায়দায় পড়েছেন, এইবার খেলা যাবে তাঁকে নিয়ে। আমাদের পরম আস্তিক ভাই আরিফ আজাদ এই নাস্তিককে নিয়ে ‘ফায়সালা’ দেবেন। সুযোগমতন তাঁকে ধুয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন ঠিক এই সময়টায়, তাঁর বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে। তিনি কিন্তু তাঁর ‘প্যারাডক্সিকাল সাজিদ’ বইয়ে জাফর ইকবালকে নিয়ে রসের কথা বলেছেন। এই বই দারুণ লজিকের জন্য হিট খেয়েছে। জাফর ইকবালকে নিয়ে কটু কথা বললে আর সেটা হতে হত না। এই বাস্তব জ্ঞান লেখকের ভালোই আছে। আগে জনপ্রিয়তা, তারপর ধোওয়া। মজার ব্যাপার তিনি হিমুকে নিয়েও কটাক্ষ করেছেন, সেটাও পরোক্ষভাবে। আরিফ আজাদ! পল্টি আপনিও কম নেন না!

আরিফ আজাদের মতন মানুষ খুব উন্নাসিক ধরনের হয়ে থাকে। তারা আল্লাহপাকের পরম মধুময় সৃষ্টি। বাকিসব গঙ্গার জলে ভেসে এসেছে। জাফর ইকবালকে ভালো লাগে না, পহেলা বৈশাখ ভালো লাগে না, মঙ্গল শোভাযাত্রা ভালো লাগে না। কী ভাই ধর্ষণ নিয়ে কথা আসে না? অশ্লীল চলচ্চিত্রের আগ্রাসন নিয়ে কথা বের হয় না? উদ্ভাবনী চিন্তা করে পৃথিবীকে বদলে দেয়ার জন্য এই অযথা চিৎকারের সময়টুকু ব্যয় করেন। পৃথিবী বদলে যাচ্ছে, আপনারা আছেন বাম-ডান, আস্তিকতা-নাস্তিকতা নিয়ে। আরে যে, মার্ক জাকারবার্গের প্ল্যাটফরমে লিখেন সেও তেমনভাবে ধর্মবিশ্বাসী না। ফেসবুক বয়কট করেন দেখি! যে ইন্টারনেট চালাচ্ছেন, তার জন্মদাতাদের ধর্মবিশ্বাস-আস্তিকতা খোঁজেন গিয়ে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিখ্যাত হয়ে যাবেন।    

কারো ভেতর খোদার বিশ্বাস আছে কী নাই, সেটা নিয়ে ট্যাগ দেওয়ার কেউ কেউ না। আমার ভেতরের বিশ্বাস যার জানার সে জানলেই চলবে। মাইকিং করে হালকা করতে চাই না। 

Comments