বিদায়! অসাধারণ মাস রমজান!

রামাদান। কেউ বলে রমযান, বানানভেদে রমজান, রোজার মাস। অসাধারণ একটা মাস, তাই না? সবকিছু কেমন একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে।

বাইরে গেলে দুপুর হলে ঘরে ফেরার তাড়া থাকে, খাবার খেতে হবে। যাদেরকে বাইরেই থাকতে হয়, তাদেরকে রেস্তোরাঁয় ঢুঁ মারতে‌ হয়, পেটপূজা করতে হবে। কিন্তু রোজার মাস এলে? সেই তাড়না থাকে না। অনেকটা সময় বেঁচে যায় কাজ করার জন্য। কাজের মানুষের জন্য এটা বড় সুবিধা। সেইসাথে রোজা থাকার গুরুত্ব চিকিৎসাশাস্ত্রে যা বলা হয়েছে, তা তো আপনারা ইতোমধ্যেই জেনে ফেলেছেন।

কথাবার্তা-আচারব্যবহার সব থাকে একরকম নিয়ন্ত্রণে। যারা মুসলিম না, তারাও এ বিষয়টাকে শ্রদ্ধা করে। 'ঐ তুই রোজা না? গালি দিস কেন?' আমার সেইসব হিন্দু ও খ্রিষ্টান বন্ধুদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যারা দুষ্ট মানুষ, তারাও আল্লাহর ভয়ে অনেক কিছু থেকে বিরত থাকে।
আমি রমজান এলে খুব বাড়াবাড়ি রকমের পরহেজগার হয়ে যাই না, আবার খুব ড্যাম কেয়ারও হয়ে যাই না। রমজান এলে খুব ভালো থাকব, গালি দিব না, অশ্লীলতা করব না; আর রমজান চলে গেলে আগের অবস্থায় জালওয়া দেখাতে থাকব—লোকদেখানো আমি অপছন্দ করি। 


আমি খুব কঠিনভাবে ইসলাম অনুসরণ করি না। গান শুনি সব ঘরানার- রবীন্দ্রসঙ্গীত-নজরুল থেকে শুরু করে হিপহপ-রক-পপ-আধুনিক কিংবা বাংলাদেশি বা ভারতীয় আঞ্চলিক গান। মানুষজনের ছবি আঁকি, সেই ছবি আবার ঘরে টাঙিয়ে রাখি। ছায়াছবিতে চুম্বন দৃশ্য শুরু হলে তা-ও দেখি, মনে মনে বলি- 'আল্লাহ দেখো! সবকিছুই তো মোটামুটি এক্সপ্লোর করতে হয়!' গিটার বাজাই, হারমোনিয়াম বাজাই—এসবের কোনোটাতেই ইসলামের সবুজ সিগনাল নাই।

তবুও সাহরির সময় যখন ফকিরাপুলের দিক থেকে মুয়াজ্জিন (নাকি ইমাম?) সুললিত কণ্ঠে কিছু তিলাওয়াত করেন, তখন মাঝে মাঝে তন্ময় হয়ে শুনি! রমজান চলে যাচ্ছে। এরকম আর শোনা যেতে আরো বছরের অপেক্ষা! তারাবিহর জন্য কী প্যাশন নিয়েই না পড়েছি এবার! নিয়ন্ত্রণের মাসের জন্য আরো বছরের অপেক্ষা! গাজীপুরের রমজান, খিলগাঁওয়ের রমজান, উত্তরার রমজান, আরামবাগের রমজান—সব রমজান আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে!

Comments