হ্যাঁগো বইমেলা! শুনছ!

২০১৮ এর বইমেলা অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়, বই যে হারে কেনা হয়েছে- ফ্লাওয়ার ব্যান্ড সে হারেই কেনা হয়েছে। কে পরেনি সেই ব্যান্ড? মেলায় ঘুরতে এসে বাবা তার ছোট্ট মেয়েকে, ভাই তার বোনকে, প্রেমিক তার প্রেমিকাকে- প্রায় সবাই কিনে দিয়েছে এই ‘অলঙ্কার’। চৌদ্দই ফেব্রুয়ারির কিছু আগের ঘটনা। হাইকোর্টের কাছে চশমা পরা একজন, তার মাথায় ফ্লাওয়ার ব্যান্ড, চুপচাপ অন্যদিক ফিরে তাকিয়ে আছে। আমি প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে গেলাম- এইবার সারপ্রাইজ দেওয়া যাবে! ঘাড় বাঁকিয়ে দেখলাম। রাতের অন্ধকারে বোঝা যায় নি- অন্য কেউ। চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি।  

ফ্লাওয়ার ব্যান্ডের এমন জনপ্রিয়তা ফেসবুক ফিল্টারের কল্যাণেই হয়েছে। একটা ওয়েবসাইট-স্রেফ একটা ওয়েবসাইট-কত প্রভাব ফেলছে! ফ্লাওয়ার ব্যান্ড- এই জিনিসটা অবশ্য আমার ভালোই লেগেছে। বইয়ের মেলায় আরেকটা জিনিস ভালো লেগেছে, সেটার নাম বিকাশ। ভালো পরিমাণ কিছু ছাড় পাওয়াতে অনেকগুলো বই কেনা গেছে এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার কারণে। বিকাশকে ধন্যবাদ।
আরেকটা ধন্যবাদ পাবে বাংলা একাডেমি। মেলাটা সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সম্প্রসারণের জন্য ঘুরে-ফিরে বইও কেনা গেছে, বই দেখা গেছে। কথাপ্রকাশ আর পাঠক সমাবেশের স্টল সবচেয়ে ভালো লেগেছে; বেঙ্গলের স্টলও ভালো লাগত, কিন্তু বইয়ের দাম অযৌক্তিকভাবে বেশি হওয়ায় ভালো লাগা স্থায়ী হয় নি। বাতিঘর ছোটর মধ্যে সাজাতে চেয়েছে, কিন্তু ভিড়ের কারণে বেশিক্ষণ থাকা যায় নি।

বই কিনেছি অনেকগুলো। সময়ের সাথে দেখছি রুচির পরিবর্তন হচ্ছে। আগে এক আবহাওয়ায় ছিলাম, এখন আরেক- সেটাও রুচির পরিবর্তনে দায়ী। সহচরবৃন্দ-তাদের রুচি আমার রুচিতেও হয়তো অজান্তে প্রভাব ফেলেছে। আমি হলাম- ইংরেজিতে যাকে বলে avid reader (উৎসুক পাঠক)সবরকমই পড়ি। বই হলো অসাধারণ বন্ধু। ফেলুদার স্মার্ট বা চৌকস হওয়ার পেছনে একটা কারণ কিন্তু ফেলুদা প্রচুর পড়ে, স্টাডি করে। অনেক কিছু জানে। ফেলুদার সিধু জ্যাঠা? সে তো অ্যারো বেশি জানে! অসাধারণ অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন একবার জিমি কিমেল লাইভে নিজেকে বলেন ‘বুক নিনজা’।  মামুলি বিষয়ে গুগল করার অর্থ তার ভেতরে কিছুই নাই, সে অন্তঃসারশূন্য। অন্তঃসারশূন্যতায় মানুষ বেঁচে থাকে কীভাবে? সেটাতো ভাসমান জীবনের মতো।আমিও মাঝে মাঝে অন্তসারশূন্য হই, আবার ফিরে আসতে চেষ্টা করি।  



যেসব বই এবারের মেলা থেকে কিনেছি, তার কিছু।
আমরা সবাই কিন্তু বই পড়ব! 

Comments