আদর্শ হিন্দু হোটেল: স্বপ্ন জাগানিয়া একটি বই!


বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' বইটা মনে একেবারে দাগ কাটিয়া যাইবার মতন বই। Les Misérables ঘরানার বই। তবে বিভূতিভূষণ প্রাচ্যের লেখক। পাশ্চাত্যের কেহ হইলে হয়তোবা তাঁহার সুখ্যাতি বিশ্বজোড়াই ছড়াইয়া পড়িত।

বিভূতিবাবু কী স্বপ্নটাই না আমাদিগকে দেখাইলেন, হাজারি ঠাকুরের মধ্য দিয়া! আমাকে কিছু করিতে হইবে, নচেৎ বড় হওয়া যাইবে না—এই যে উদ্যম, এই যে আনন্দ—ইহাই তো জীবন! গঞ্জিকা সেবন করিয়া গেলে স্বপ্ন ছোঁয়া যাইবে না—ইহাই তো উপলব্ধি!

চারিপাশের মানুষের ভালোবাসা-শ্রদ্ধার সিঞ্চন হাজারি ঠাকুর যেমন পাইয়াছেন, তেমনি তা ছড়াইয়া দিয়াছেন। 
কী সততা! কী ধর্মভক্তি! কী বিচার-বিবেচনা! এইসবের সমন্বয় বড়ই দুর্লভ- তা সে যে কালেরই কথা বিবেচনা করুন না কেন! 

আমার সহিত কলকাতার কোনো চিত্র নির্মাতার ভাবখাতির থাকিলে তাহাকে বলিতাম, এইবার 'চাঁদের পাহাড়'র মতো ইহাকেও চলচ্চিত্রায়ণ করুন। কারণ ইহাতে স্বপ্ন আছে, স্বপ্নের পেছনে ছুটিয়া চলা আছে।‌

উপন্যাসের হরিচরণবাবুর একখানা সংলাপ আমার মনে ধরিয়াছে। যেসব হিঁদু তৎকালে পঁয়ত্রিশ না হইতেই গলায় মালা ঝুলাইত, তাহাদের উদ্দেশে বলেন- 'তোরা ইহকালই ভোগ করলিনে, পরকালে গিয়া কী করিবি?' বড় বাস্তব কথা! 

হুমায়ূন আহমেদের রচনার ওপর বিভূতিভূষণের প্রভাব আরো একবার প্রত্যক্ষ করিলাম। বিভূতিভূষণ আধুনিক বটে!

Comments